স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির চতুর্থ দিনে রাজধানী ঢাকা ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে তার চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য। ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা রাজধানীতে ফিরতে শুরু করায় সড়কে যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে।
রোববার (৩১ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ফিরতি যাত্রীদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাসে করে বিপুলসংখ্যক মানুষকে ঢাকায় ফিরতে দেখা যায়। যাত্রাবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় যানবাহনের চাপও ছিল তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচলও বেড়েছে।
সকালে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর কিছু এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশি যানবাহন দেখা গেছে। অফিস-আদালত এখনো বন্ধ থাকলেও জরুরি সেবা, দোকানপাট এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমিত কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নগরীতে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে।
গুলিস্তান, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেট, নিউমার্কেট ও মিরপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও মানুষের চলাচল ছিল গত কয়েক দিনের তুলনায় বেশি। বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে রাজধানীর অনেক আবাসিক এলাকায় এখনো ঈদের ছুটির আমেজ বিরাজ করছে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়ানো এবং পারিবারিক আড্ডায় সময় কাটাতে দেখা গেছে অনেককে।
অন্যদিকে, ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন জেলার মানুষ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক ট্রেন এসে পৌঁছায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। ট্রেন থেকে নেমে আসা যাত্রীদের হাতে ছিল লাগেজ, চোখে ছিল কর্মস্থলে ফেরার ব্যস্ততা।
সিরাজগঞ্জ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রী মোহাম্মদ নাজিম বলেন, সোমবার অফিসে যোগ দিতে হবে বলে একদিন আগেই চলে এসেছেন। ঈদের আগের তুলনায় ফিরতি যাত্রা অনেক স্বস্তিদায়ক ছিল বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ‘এগারোসিন্ধু’ ট্রেনের যাত্রী জাকিয়া ফ্লোরা বলেন, ট্রেনে ভিড় থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ছিল। দাঁড়িয়ে অনেক যাত্রী এলেও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
জামালপুর থেকে ফেরা যাত্রী নয়ন মিয়া বলেন, ঈদের আগে যে ধাক্কাধাক্কি ও ভোগান্তি ছিল, ফিরতি পথে তার পুনরাবৃত্তি হয়নি। দীর্ঘ পথ হলেও যাত্রা ছিল তুলনামূলক স্বাভাবিক।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি ট্রেনে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত যাত্রী থাকলেও ঈদের আগের মতো ছাদে যাত্রী পরিবহনের দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে নোয়াখালী, জামালপুর ও চট্টগ্রাম রুটের কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছেছে।
এদিকে এক নারী যাত্রী নোয়াখালী থেকে ফেরার পথে তার গলার সোনার চেইন হারানোর অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি জানার পর নিরাপত্তাকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করলেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগাম টিকিট বিক্রি, অতিরিক্ত নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনা জোরদারের কারণে এবারের ফিরতি যাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঈদের পরও অনেক যাত্রী পূর্বনির্ধারিত টিকিটে ঢাকায় ফিরছেন, ফলে স্টেশন এলাকায় এখনো স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি যাত্রী উপস্থিতি রয়েছে।
সব মিলিয়ে ঈদের ছুটির চতুর্থ দিনে রাজধানী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে। পুরোপুরি কর্মব্যস্ততা না ফিরলেও নগরজীবনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসার স্পষ্ট আভাস মিলছে।