ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সামরিক ক্ষমতা খর্ব করতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নিয়ে খোদ ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দলটির চারজন আইনপ্রণেতা ডেমোক্র্যাটদের সাথে সুর মেলালে ২১৫-২০৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়।
প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতাকে লাগাম পরাতে প্রতিনিধি পরিষদে এটি চতুর্থবারের মতো কোনো উদ্যোগ। সমালোচকদের দাবি, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প এই অবৈধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও প্রস্তাবটি এখনো রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর সিনেটে পাস হলেও এটি পুরোপুরি যুদ্ধ থামাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবে ভেটো (অনুমোদন না দেওয়া) দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভেটো বাতিল করতে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে, যা বেশ কঠিন।
প্রস্তাবটি পাসের ক্ষেত্রে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা থমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন ডেমোক্র্যাটদের সাথে যোগ দেন। অন্যদিকে, মেইনের ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি আগে এই ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলেন, এবার তিনিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।
মিশিগানের রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম ব্যারেট দৃঢ়তার সাথে বলেন, কেবলমাত্র কংগ্রেসেরই যুদ্ধ ঘোষণার অধিকার রয়েছে এবং আমাদের অবশ্যই এটি রক্ষা করতে হবে। ট্রাম্পের ক্ষোভের মুখে পড়ার ভয় পান কি না— জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জানান, আমি আমার বিবেক অনুযায়ী ভোট দিয়েছি, এর ফলাফল যা-ই হোক আমি মেনে নিতে রাজি।
হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই ভোটকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক চড় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। উল্টো দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী করেছেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ কঠিন করে তুলেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে ইরান উপকূলে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।
গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও সম্প্রতি সেই চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে মার্কিন মিত্র কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।
এদিকে এই ভোটাভুটির মধ্যেই হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা খুব ভালো চলছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ একটি চূড়ান্ত চুক্তি সই হতে পারে।
গতকালের মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমরা আগের রাতে এবং গতকাল রাতেও ওদের ওপর বেশ ভালো আঘাত হেনেছি। কেউ কেউ বলতে পারেন ওরা কিছুটা উসকানিমূলক আচরণ করেছিল, কারণ আমরা অন্য একটি কারণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, তাই ওরাও পাল্টা জবাব দিয়েছে।
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, তার প্রশাসনের অধিকাংশ সদস্যই আর রক্তপাত চান না এবং দ্রুত এই সংকটের অবসান চান। তিনি বলেন, তাত্ত্বিকভাবে ওরা (ইরান) চুক্তিতে সই করার খুব কাছাকাছি রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওদের সাথে আমাদের আলোচনা বেশ ভালোই এগোচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব