প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 04-06-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ কাপাসিয়ায় দিনব্যাপী ‘গ্রাম আদালত বিষয়ক’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ‘গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে—চলো যাই গ্রাম আদালতে” স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডা. তামান্না তাসনীম।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালনায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬১টি জেলায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়ায় এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তিতে কাপাসিয়া উপজেলা বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী রুবি আক্তারের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, থানার এসআই শুভ চন্দ্র রায়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. শামসুল হুদা লিটন, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধি মালা রানী দাস, ইউএনও কার্যালয়ের কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, কারিতাস ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র মণ্ডলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
কর্মশালায় জানানো হয়, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে চুরি, ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নারীর শালীনতাহানি, গচ্ছিত সম্পত্তি আত্মসাৎ, পশুহত্যা ও ক্ষতিসাধনের মতো বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করা যায়। এছাড়া পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, ক্ষতিপূরণ, কৃষি শ্রমিকদের মজুরি আদায় এবং স্ত্রীর বকেয়া খোরপোষ আদায়ের মতো দেওয়ানি মামলাও গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প খরচে বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত গঠন করা হয়েছে। আবেদনকারী ও প্রতিবাদী পক্ষের মনোনীত দুইজন করে সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নিয়ে মোট পাঁচ সদস্যের প্যানেল এ আদালত পরিচালনা করে।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, দেওয়ানি মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলায় ১০ টাকা ফি প্রদান করতে হয়। মামলার শুনানি শুরু হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় নিয়ে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।