প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 04-06-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ বনানীর পথচারীদের বিশ্রামস্থল এখন টং দোকানের দখলে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রাজধানীর বনানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট মোড়ে পথচারীদের বিশ্রামের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্মিত বসার স্থান এখন কার্যত দখলে চলে গেছে অস্থায়ী চা-সিগারেটের দোকানগুলোর। কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো পথচারীদের স্বস্তি দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে বসা তো দূরের কথা, দাঁড়ানোরও পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ওয়্যারলেস গেইট মোড়ে পথচারীদের জন্য আধুনিক বিশ্রামস্থল নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের অংশ হিসেবে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আলোকসজ্জা স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। তবে স্থাপনের পর থেকেই লাইট অকার্যকর হয়ে পড়ে। রোপণ করা গাছগুলোরও এখন আর কোনো অস্তিত্ব দেখা যায় না।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্রামস্থলের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে চা, সিগারেট ও বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী দোকান। দোকানগুলোর সামনে সারাক্ষণ ভিড় লেগে থাকায় পথচারীরা বসার সুযোগ পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে সেখানে প্রকাশ্যে ধূমপানের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।
পথচারী আবদুল করিম বলেন, “এই জায়গাটি মূলত ক্লান্ত মানুষদের বসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পুরো এলাকাই দোকানদার আর ক্রেতাদের দখলে। বসার কোনো সুযোগ নেই। ধূমপানের কারণে পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।”
আরেক পথচারী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “বাসের জন্য অপেক্ষা করতে এসে কিছুক্ষণ বসার সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে সবসময় দোকানের ভিড়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি বিব্রতকর।”
তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা বলছেন, প্রকাশ্য স্থানে ধূমপান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবুও গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে প্রকাশ্যে ধূমপান অব্যাহত থাকায় আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের এক কর্মকর্তা বলেন, “পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ। পথচারীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রকাশ্যে ধূমপান শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশ্রামস্থলের পাশেই বনানী থানা বিএনপির কার্যালয় থাকলেও অবৈধ দোকানপাট অপসারণ কিংবা পরিবেশ রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে বনানী এলাকার এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা সমর্থনযোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। পথচারীদের জন্য নির্মিত স্থাপনা জনগণের স্বার্থেই ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।”
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, “পথচারীদের সুবিধার জন্য নির্মিত কোনো স্থাপনা দখল হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, অকার্যকর আলোকসজ্জা মেরামত, নতুন করে বৃক্ষরোপণ এবং পথচারীদের জন্য বিশ্রামস্থলটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জনসাধারণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো যদি জনগণেরই কাজে না আসে, তাহলে পুরো প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে পড়বে।