রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আজকে বাস থেকে না নামলে নির্ঘাত মারা যেতাম। আমি সাঁতার পারি না। আজ অনেক বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের যাত্রী মৌমিতা শেখ। কুষ্টিয়ার মজমপুর থেকে একাই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, সকাল ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার মজমপুর থেকে বাসে ওঠেন। সকাল সাড়ে ৯টার কিছু আগে বাসটি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিঘাটে প্রবেশের আগেই সুপারভাইজার সব যাত্রীকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন। তিনি বলেন, নির্দেশ অনুযায়ী যাত্রীরা নেমে যান এবং সংযোগ সড়ক দিয়ে হেঁটে সরে যান।
মৌমিতা শেখ বলেন, আমরা যখন হাঁটছিলাম তখন দেখি বাসটি হঠাৎ ফুল স্পিডে সামনে এগিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেল। আমরা নেমে যাওয়ায় আজ প্রাণে বেঁচে গেছি।
তিনি আরও বলেন, ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সরকারের আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত। তার মতে, খাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থেকেই যায়।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটি উদ্ধার করে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, যাত্রীরা আগেই নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। তিনি সবাইকে ফেরিঘাট ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে গত ২৫ মার্চ একই ঘাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা সোহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়, যেখানে ২৬ জন যাত্রী নিহত হন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম