যশোর প্রতিনিধি: যশোরে বিয়ের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নববধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। সোমবার (৮ জুন) সকালে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী সুজন নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত সামিনা আক্তার শাম্মী (২০) নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত স্বামী সুজন টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। প্রায় ছয় মাস আগে পারিবারিক ও প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে তাদের বিয়ে হয়। এরপর তারা যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাদক সেবনের টাকা নিয়ে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সুজন ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী সামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সুজন নিজেও একই ছুরি দিয়ে নিজের শরীরে একাধিক আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।
স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে তারা বিয়ে করেন এবং পরে আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সামিনার মৃত্যু হয়। আহত সুজনের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন নিহতের স্বজনরা। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সুজনের বাবা-মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দম্পতির মধ্যে পারিবারিক ও আর্থিক বিষয়সহ নানা বিষয়ে বিরোধ চলছিল। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।