স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বের জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এখন বয়সের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। ৩৯ ছুঁইছুঁই এই আর্জেন্টাইন তারকা ক্যারিয়ারে প্রায় সব অর্জনই নিজের করে নিয়েছেন আটটি ব্যালন ডি’অর, ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়।
তবুও থেমে যাননি তিনি। বয়সের কারণে আগের মতো দ্রুত বা বেশি দৌড়াতে না পারলেও, মাঠে এখনো সমান কার্যকর মেসি। বরং তার খেলার ধরন এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন শারীরিক পরিশ্রমের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা ও অবস্থানগত কৌশলই হয়ে উঠেছে তার প্রধান শক্তি।
বর্তমানে মেসিকে অনেকেই হাঁটতে হাঁটতে খেলা খেলেন বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। তিনি এখন অনেকটা আমেরিকান ফুটবলের ‘কোয়ার্টারব্যাক’-এর মতো ভূমিকা পালন করেন নিজে সব দৌড় না দিয়ে পুরো দলের খেলা পরিচালনা করেন।
মেসি মাঠে বল পায়ে না থাকলেও তার মস্তিষ্ক ক্রমাগত কাজ করে। প্রতিপক্ষের অবস্থান, দলের গঠন, খেলার গতি—সবকিছু তিনি মুহূর্তেই বিশ্লেষণ করেন। ফলে যখন বল তার পায়ে আসে, তখন তিনি ইতিমধ্যেই আক্রমণের সেরা সুযোগটি তৈরি করে ফেলেন।
এই কারণেই দেখা যায়, মেসি বেশি না দৌড়ালেও খেলার গতি তার নিয়ন্ত্রণেই থাকে। তিনি শক্তি সঞ্চয় করে রাখেন এবং প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সেটি ব্যবহার করেন—যা একজন অভিজ্ঞ ও পরিপক্ব ফুটবলারের বৈশিষ্ট্য।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার খেলার ধরন বদলালেও আর্জেন্টিনা দলের ওপর তার প্রভাব এখনো অপরিবর্তিত। তিনি এখনও দলের আক্রমণভাগের কেন্দ্রবিন্দু। তার পাশে আছেন হুলিয়ান আলভারেজ ও থিয়াগো আলমাদা। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের বড় একটি অংশ এখনো স্কোয়াডে রয়েছে, সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ, যাদের মধ্যে নিকো পাস উল্লেখযোগ্য।
অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে এবারও আর্জেন্টিনা বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে—আর সেই স্বপ্নের মূল ভরসা এখনো লিওনেল মেসিই।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম