রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। নতুন অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে এ বেতন কাঠামো কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি করা হবে বলে জানা গেছে। জুন মাসের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কমিশনের পূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সরকার ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।
এছাড়া প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও নতুন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক ধাপে ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই বছরে ধাপে ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে।
তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের এই পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিছু সরকারি কর্মচারী সংগঠন। তাদের দাবি, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল এক ধাপে এবং শতভাগ কার্যকর করা উচিত।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম