স্পোর্টস ডেস্ক: দীর্ঘ ২১ বছর পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে অজিদের ৮৬ রানে (ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে) হারিয়েছে টাইগাররা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ১৯১ রান তুলতেই থেমে যায়।
চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ব্যাট হাতে ৭০ বলে সাত চার ও তিন ছক্কায় অপরাজিত ৮৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও দুটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তিনি। আরেক নায়ক নাহিদ রানা। গতিতারকা এই পেসার ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির বল করে একের পর এক ব্যাটারকে চাপে ফেলেন তিনি।
সদ্যসমাপ্ত পাকিস্তান সফরে দুর্দান্ত বোলিংয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনায় উঠে আসেন নাহিদ। তার গতি ও নিয়ন্ত্রণ দেখে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম মন্তব্য করেছিলেন, এই তরুণ পেসার বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন। মিরপুরের পারফরম্যান্স যেন সেই মন্তব্যেরই প্রতিফলন।
২০০৫ সালের কার্ডিফে ঐতিহাসিক জয়ের পর এই প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। তবে এবারের জয়কে কোনো অঘটন বলা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল স্বাগতিকরা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটি গড়ে ইনিংসের ভিত শক্ত করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই বাঁহাতি ব্যাটারের দৃঢ়তায় বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় দল।
তানজিদ ৫৫ ও শান্ত ৬৭ রান করে বিদায় নিলেও মাঝের ধাক্কা সামাল দেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৭৫ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। হৃদয় ৩১ রান করে ফিরলেও শেষদিকে নিম্নক্রমের ব্যাটারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের স্কোর ২৮৪ রানে নিয়ে যান মোসাদ্দেক।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাট শর্টকে বোল্ড করে দেন তাসকিন আহমেদ। ফলে টানা তৃতীয় ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে কোনো রান যোগ করতে পারেনি অজিরা।
পরের ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর নাহিদ রানার গতি ও বাউন্সের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি অধিনায়ক জশ ইংলিস। লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। উইকেট নেওয়ার পর দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কুপার কনোলি ৩৫ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭ রান করেন। শেষদিকে ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ৫২ রান করলেও ম্যাচে তখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছিল বাংলাদেশ।
অভিষিক্ত লিয়াম স্কট ও জেভিয়ার বার্টলেটকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন নাহিদ। স্কটকে তাওহিদ হৃদয়ের দারুণ ক্যাচে বিদায় করেন তিনি, আর বার্টলেট ১৪৮ কিলোমিটার গতির বলে ক্যাচ তুলে দেন।
ম্যাট রেনশকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মোসাদ্দেক। শেষদিকে নাথান এলিসের ক্যাচ নিয়ে নিজের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে পূর্ণতা দেন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ৪টি, মোসাদ্দেক হোসেন ২টি এবং তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তানভীর ইসলাম একটি করে উইকেট নেন।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো ওপেন করতে নেমে কুপার কনোলি যখন ইনিংসের শুরুর দিকে তাসকিন আর মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত সামলে ৫০ বলে ৩৫ রান করে উইকেটে থিতু হতে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই তাকে আউট করেন মোসাদ্দেক। এরপর অ্যালেক্স ক্যারি ৪৭ রান করে নাহিদ রানার শিকার হন। ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ৫২ রান করলেও ম্যাচ তখন অনেকটাই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
অভিষিক্ত লিয়াম স্কট ও জেভিয়ার বার্টলেটকেও দ্রুত ফিরিয়ে দেন নাহিদ। স্কট শর্ট লেগে তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন, আর বার্টলেট ১৪৮ কিলোমিটার গতির বলে ক্যাচ তুলে দেন।
ব্যাটিং বোলিং এবং ফিল্ডিং- তিন ডিপার্টমেন্টই নিজেদের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি