চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: তীব্র গরম ও বৃষ্টিপাতের ঘাটতিতে দিন দিন কমে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। এর প্রভাবে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল থাকা দুটি ইউনিট থেকে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে সচল থাকা বাকি দুটি ইউনিটও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও ঘাটতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে।
কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুই নম্বর ইউনিট থেকে ৩৩ মেগাওয়াট এবং তিন নম্বর ইউনিট থেকে ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে দুটি ইউনিট থেকে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
সূত্রটি আরও জানায়, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিকভাবে পানির স্তর ৭৮ দশমিক ০৮ মিন সি লেভেল (এমএসএল) থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৭৩ দশমিক ৯৯ এমএসএলে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, পানির স্তর কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বাকি দুটি ইউনিট সচল রয়েছে এবং সেগুলো থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি ও জুড়াছড়ি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে হ্রদের পানি কমে গেলে এসব এলাকার নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি