রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন ছাড়ার সময় তার হাতে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় ছিল। সে কারণে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ তিনি পাননি। তিনি জানান, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না; বরং টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
ভারতের নয়াদিল্লি থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমি টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাব বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমি জানতামই না, দেশের বাইরে যাচ্ছি। সংবিধান অনুযায়ী স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেওয়াই নিয়ম। কিন্তু সে সুযোগ আমাকে দেওয়া হয়নি।’’
তার দাবি, ৫ আগস্ট পরিস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক এবং গণভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া জনতার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি বলেন, তার এবং তার বোন শেখ রেহেনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গণভবনে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন সফল করতে সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন মূলত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বেআইনিভাবে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে তার সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে পরবর্তীতে সেই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, ওই প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে প্রস্তুত হওয়ায় তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মানদণ্ড পূরণ করেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সরকারি গেজেটের তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে এবং এ বিষয়ে আরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। সূত্র: ‘এই সময়’-কে দেওয়া শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার
রিপোর্টার্স২৪/এসসি