আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একে অপরের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান অবিলম্বে শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। এর জেরে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
গত এপ্রিল মাসে যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, বর্তমান সংঘাত সেটিকে সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ‘অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের’ জবাবে তারা দেশটির সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, আপাতত মার্কিন হামলা বন্ধ করা হবে। তবে ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত কোনো সমঝোতায় না এলে ভারী বোমাবর্ষণ আবারও শুরু করা হবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায় এবং বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারেও সেই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া অভিযান প্রায় চার ঘণ্টা পর শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনের ১৮টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া টানা দ্বিতীয় রাতের মতো জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিহত করা ইরানি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাজধানী মানামা ও হামাদ শহরে কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি গাড়িতে আগুন লাগে। এতে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী সামান্য আহত হয়েছে।
ইরানি হামলার কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখে। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি