নয়াদিল্লি প্রতিনিধি: ভারতের ৫ ট্রিলিয়ন (৫ লক্ষ কোটি) ডলারের অর্থনীতি গড়ার সরকারি লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও পূরণ হয়নি বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রথম এই লক্ষ্য ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তখন ২০২২ সালকে সময়সীমা ধরা হয়েছিল।
পরবর্তীতে লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর নির্ধারণ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক জিডিপি তথ্য অনুযায়ী, এই সময়সীমাও পূরণ হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৩৪৬.৪ লাখ কোটি রুপি, যা মার্কিন ডলারের হিসেবে প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের সমান। ফলে ঘোষিত ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রকাশ্য বক্তব্যে ‘৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়েও ভারতের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিছু সূচকে ভারত শীর্ষ পাঁচ অর্থনীতির বাইরে অবস্থান করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০০৪–২০১৪ সময়কালে ভারতের জিডিপি ডলারের হিসাবে উচ্চ হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কমেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে টাকার অবমূল্যায়নকেও ডলারে অর্থনীতির আকার কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি বৃদ্ধি, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, জ্বালানি নির্ভরতা কমানো এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, দেশীয় মুদ্রায় প্রবৃদ্ধি কিছুটা দৃশ্যমান হলেও তা আন্তর্জাতিক ক্রয়ক্ষমতা ও বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণে যথেষ্ট নয়। তাই ডলারের হিসাবে অর্থনীতির আকারই বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নিয়ে পূর্বে সরকারিভাবে ব্যাপক প্রচার থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে ২০৪৭ সালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি