রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটকে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধিমুখী ও জনকল্যাণমুখী, তবে একই সঙ্গে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবায়ন-নির্ভর বাজেট বলা যায়।
ইতিবাচক দিক হলো:
* মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
* চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি, ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপণ্যে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব এসেছে।
* স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
* ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ৪১ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
* ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের জন্য ট্রেনে বিনা ভাড়ায় ভ্রমণ এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
* বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে কর-সুবিধা দিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
* কৃষক কার্ড, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।
চ্যালেঞ্জ
# ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
# রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা রয়েছে।
# উন্নয়ন ব্যয় প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়ানো হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
# বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের ধীরগতির কারণে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে।
# দুর্নীতি, অপচয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে বাজেটের সুফল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বাজেটকে কৃচ্ছ্রসাধনের বাজেট বলা যাবে না; বরং এটি একটি বিস্তৃত ব্যয়ভিত্তিক ও প্রবৃদ্ধিনির্ভর বাজেট। এতে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি সুশাসন ও বাস্তবায়ন দক্ষতার ওপর।
অর্থাৎ, কাগজে-কলমে এটি উচ্চাভিলাষী ও জনবান্ধব বাজেট; বাস্তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি