শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বড়ডুবি গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে জামাইয়ের দায়ের করা অর্থ আত্মসাৎ ও অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় শ্বশুর দুলাল হোসেনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে শেরপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শুভপর্ণা উভয় পক্ষের শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার বড়ডুবি গ্রামের দুলাল হোসেন তার ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে জামাই মো. আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। তবে পরবর্তীতে তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, টাকা ফেরত চাইলে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দুলাল হোসেন প্রকাশ্যে তার জামাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জামাই আদালতে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানি, বাদীপক্ষের পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, “আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। ন্যায়বিচারের স্বার্থে দ্রুতই উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।”
অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে আইন সবার জন্য সমান। পারিবারিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে কারও অর্থ আত্মসাৎ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে তারও আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন