প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 15-06-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ মাদারীপুরে মানবপাচার মামলায় শাশুড়ি গ্রেপ্তার, জামাইকে খুঁজছে পুলিশ
মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরে মানবপাচার মামলায় শাশুড়ি কুলসুম বেগমকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাতে শিবচর উপজেলার কেরানীবাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত জামাই কুদ্দুস রহমান (৩৫) এখনো পলাতক। গ্রেপ্তার কুলসুম শিবচর উপজেলার কেরানীবাট গ্রামের সামাদ খানের মেয়ে এবং কুদ্দুস রহমানের শাশুড়ি। পরে রোববার (১৪ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চর খোয়াজপুর গ্রামের মৃত বজুল হাওলাদারের ছেলে সানাউল্লাহকে (২২) সরাসরি ইতালি পাঠানোর চুক্তি হয় শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে কুদ্দুস রহমানের সঙ্গে। চুক্তি অনুযায়ী ২০ লাখ টাকা দেওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর সানাউল্লাহকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে আটকে নির্যাতন চালায় দালালচক্র।
পরে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে সানাউল্লাহর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আরও ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। ধারদেনা করে দালালচক্রের হাতে মোট ৪০ লাখ টাকা তুলে দিলেও গত ছয় মাস ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, নির্যাতন করে সানাউল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ১ জুন সানাউল্লাহর দুলাভাই দুধখালী গ্রামের আব্দুর রশিদ খানের ছেলে রনি খান (৩৭) বাদী হয়ে মাদারীপুর মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে কুদ্দুস রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় মামলাটি এজাহারভুক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে কুদ্দুস রহমানের শাশুড়ি কুলসুম বেগমকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানা-পুলিশ।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মানবপাচার মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক জামাইসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”