নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ‘যুক্তির সমীরণে প্রাচ্যের ডান্ডি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বিতর্ক উৎসব ও প্রতিযোগিতা।
সোমবার (১৫ জুন) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এটি কেবল একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা নয়; বরং পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়েছে। যুক্তিনির্ভর সমাজ গড়ে তুলতে বিতর্কচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অনেক সময় বিতর্ক শব্দটি শুনলে মনে হয় কেবল তর্ক-বিতর্ক হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একটি সমাজ বিকশিত হয় যুক্তির মধ্য দিয়ে। যেখানে মতভেদ বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, সেখানে গঠনমূলক বিতর্কের প্রয়োজন পড়ে। সেই বিতর্কের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও গতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তর্ক-বিতর্ক ও মতের ভিন্নতা না থাকলে সমাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতা গড়ে তোলে এবং যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। দীর্ঘদিন বিতর্কচর্চা কমে যাওয়ার কারণে প্রশ্ন করার সংস্কৃতিও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন করে চিন্তা ও যুক্তির চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করবে।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এবারের বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাবকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সমাধানের পথ অনুসন্ধান করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও মানসিক বিকাশে জেলায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সেমিনার আয়োজন, সপ্তাহে একদিন বিদ্যালয়ে ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বইপড়া প্রতিযোগিতা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি সংসদীয় আসনের ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিতর্কে অংশগ্রহণকারীদের তথ্যসমৃদ্ধ ও যুক্তিনির্ভর হতে হবে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে কার্যকর যুক্তি উপস্থাপনের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এই দক্ষতা বাস্তব জীবনেও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
রায়হান কবির বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, যুক্তিনির্ভরতা এবং নিজেকে উপস্থাপনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উৎসবের প্রথম দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিতর্কবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টা থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় ধাপের কর্মশালা আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বিতর্কের মৌলিক কাঠামো ও কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৮টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এতে ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে এবং তাদের সহযোগিতায় রয়েছেন ৬০ জন শিক্ষক।
আগামী ১৭ জুন মূল প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে ২১ জুন পর্যন্ত চলবে। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সদরের কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও উপজেলা পরিষদ ভবনে একযোগে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। মোট আটটি কক্ষে ৬০টি বিতর্ক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিতর্ক উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লজিক অব বাংলাদেশ’। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দ্য ডেইলি স্টার, একাত্তর টিভি, আরটিভি, বাংলাভিশন ও আমার দেশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের দেবযানী কর এবং সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু