স্টাফ রিপোর্টার: বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই, কিন্তু মাঠে তার ছন্দে তারুণ্যের কোনো ঘাটতি নেই। ৩৯তম জন্মদিনের মাত্র আট দিন আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম হ্যাটট্রিক করে নতুন ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৫৫ তম। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
১৭ মিনিটে রদরিগোর চমৎকার একটি পাসে মেসি নিজের প্রথম গোল করে এগিয়ে নেন আর্জেন্টিনাকে। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে রাখে লিওনেল স্কালোনির দল। আক্রমণে আরও গতি আনতে ৫৫ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের জায়গায় হুলিয়ান আলভারেজ এবং থিয়াগো আলমাদার পরিবর্তে নিকো গনসালেসকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনা কোচ।
৫৪ মিনিটে মেসির নিখুঁত থ্রু পাস থেকে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। তবে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান দারুণ সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন। তিন মিনিট পর ইব্রাহিম মাজা ও ফারেস চাইবির সমন্বয়ে গড়া আক্রমণ থেকে নেওয়া শট সাহসী ব্লকে ঠেকিয়ে দেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।
৬০ মিনিটে আসে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোল। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক জিদান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে সুযোগ বুঝে বল জালে পাঠান মেসি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৫-তে এবং তিনি এককভাবে সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে উঠে আসেন।
৬২ মিনিটে আরও একটি রেকর্ড গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা প্রথম আর্জেন্টাইন ফুটবলার হন তিনি। এর আগে হার্নান ক্রেসপো ও গিয়ের্মো স্তাবিলের ছিল টানা চার ম্যাচে গোলের কীর্তি।
ম্যাচে ফেরার আশায় ৬৪ মিনিটে একসঙ্গে তিন পরিবর্তন আনে আলজেরিয়া। রিয়াদ মাহরেজ, হুসেম আওয়ার ও মোহাম্মদ আমৌরাকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা করেন কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ। কিন্তু আর্জেন্টিনার সুসংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে তাদের সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
৬৬ মিনিটে হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন মেসি। ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন লুকা জিদান। এরপর ৭১ মিনিটে দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতির পর আলজেরিয়া শেষ চেষ্টা চালালেও হুসেম আওয়ারের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অবশেষে ৭৬ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে বাম দিকে নিকো গনসালেসকে পাস দেন মেসি। বদলি হিসেবে নামা গনসালেস এক স্পর্শে বল ফিরিয়ে দিলে বক্সের বাইরে থেকে নিজের প্রিয় বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
এটি বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের সমান।
চারটি বিশ্বকাপে ২৪ ম্যাচ খেলে ১৬ গোল করেছিলেন ক্লোসা। অন্যদিকে, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসি নিজের ২৮তম ম্যাচে এসে স্পর্শ করলেন সেই ঐতিহাসিক মাইলফলক।
অধিনায়কের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশন দারুণভাবে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। আর এখন ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি মেসির দিকে—পরবর্তী গোলেই এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসতে পারেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।