ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: মাদক ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে জনমত গ্রহণ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এ গণশুনানির আয়োজন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়।
বুধবার (১৭ জুন) নগরীর নতুন বাজার এলাকার ট্রিপল ট্রি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবাগত বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির। তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হিসেবে না দেখে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল করিম বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে সামাজিক সহযোগিতা ছাড়া এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। সন্দেহজনক মাদক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জফরুল্লাহ কাজল। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সচেতনতা সৃষ্টি, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মাদক সমস্যার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা, কিশোর-কিশোরীদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।