স্টাফ রিপোর্টার: পারিবারিক আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির (সিপিসি) ১১৫ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে ‘সিভিল রিভিশন’ মামলা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য বা রক্ষণীয় কি না, সে বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ২৪ জুন এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।
বুধবার (১৭ জুন) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের একক বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত একটি ‘সিভিল রিভিশন’ মামলার ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। শুনানিতে বিবাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার ইকবাল আহমেদ, অ্যাডভোকেট এ কে এম খলিলুল্লাহ (কাশেম) ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুসফিকুল হক।
মামলার নথি অনুযায়ী, চিকিৎসক মো. জুনায়েদ তার সাত বছর বয়সী কন্যাশিশুর হেফাজত চেয়ে শিশুটির মা চিকিৎসক তানিজা জাবিনের বিরুদ্ধে ঢাকার পঞ্চম পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই আদালত শিশুটিকে তার মা ও নানির হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন এবং একই সঙ্গে বাবাকে সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাতের আইনি সুযোগ প্রদান করেন।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে জুনায়েদ ঢাকার জেলা জজ আদালতে পারিবারিক আপিল দায়ের করেন। একই বছরের ৬ নভেম্বর আপিল আদালত শুনানি শেষে আপিল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন।
এরপর দুই আদালতের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে ‘সিভিল রিভিশন’ আবেদন করেন।
শুনানিতে বিবাদী তানিজা জাবিনের পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫-এর ৩, ১৭ ও ২০ ধারার বিশেষ বিধান অনুযায়ী এ ধরনের ‘সিভিল রিভিশন’ রক্ষণীয় নয়। তাদের দাবি, অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের কার্যক্রমে দেওয়ানি কার্যবিধির কেবল ১০ ও ১১ ধারা প্রযোজ্য হবে। অন্য কোনো ধারা, বিশেষ করে ১১৫ ধারা, এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আইনজীবীরা আরও বলেন, আইনের সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক পক্ষ ভুল এখতিয়ারে হাইকোর্টে ‘সিভিল রিভিশন’ দায়ের করে আসছেন।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, ২৪ জুন ঘোষিতব্য এই রায় হাইকোর্টে বর্তমানে বিচারাধীন পারিবারিক আদালত-সংক্রান্ত হাজার হাজার ‘সিভিল রিভিশন’ মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে আইনজীবী মহল ও বিচারপ্রার্থীদের নজর এখন ওই রায়ের দিকে।