আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী অবরোধ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
তবে এই চুক্তি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘মরিয়া হয়েই’ এই সমঝোতায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছেন। খামেনির ভাষ্য, শুরুতে তিনি এই চুক্তির পক্ষে ছিলেন না, তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের পর তিনি এতে সম্মতি দেন।
চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে সব পক্ষের মধ্যে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন নিয়েও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তির শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনো আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিল পাবে না। তার মতে, ইরানকে প্রথমে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার প্রমাণ দিতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে।
তিনি আরও জানান, সমঝোতা অনুযায়ী ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুবিধা পাবে না। বরং আগামী ৬০ দিন আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে কারিগরি আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। কারণ সমঝোতা স্মারকটি ইতিমধ্যে দূর থেকেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে পরবর্তী ধাপের আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মকর্তারা ‘আন্তরিক উদ্বেগ ও সদিচ্ছা’ নিয়ে কাজ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে, তবে তা কোনোভাবেই ইরানের ‘শত্রু অবস্থান গ্রহণ’ হিসেবে দেখা যাবে না।
চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েল, হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকবে। তবে ইসরায়েলের কিছু মন্ত্রী চুক্তির সমালোচনা করলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৪টি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হওয়া এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি