ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০.৬৮ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৩১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪৬ সেন্ট বা ০.৬০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ১৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সরবরাহ বাড়ার এই প্রত্যাশাই বর্তমানে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।
জ্বালানি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল রপ্তানি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই সম্পন্ন হয়। ফলে প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে যে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি না হয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তিতে সই করেন।
সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সমঝোতার বাস্তবায়ন হলে শুধু জ্বালানি বাজারই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম