ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর থানায় দায়ের করা ধর্ষণচেষ্টা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার প্রধান আসামিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার র্যাব-১৩-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. মনসুর আলম (৪০)। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর এলাকায়।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী নারী নিজেই মামলার বাদী। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দেন। এতে সাড়া না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই কাবিননামা পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে দেখা করার কথা বলে তাঁকে ঠাকুরগাঁও শহরে ডেকে একটি হোটেলে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যাচেষ্টা এবং মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, পরে ভুক্তভোগীকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও তাঁর স্বামীসহ পরিচিতজনদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ১৯ মে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, মামলার পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩-এর দিনাজপুর ক্যাম্প এবং র্যাব-১-এর গাজীপুরের একটি যৌথ দল শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে কাপাসিয়া উপজেলার সাইনবোর্ড-নারায়ণপুর সড়কের ভুবনের চালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন, পর্নোগ্রাফিসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন