স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা ভুলে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল স্পেন। গ্রুপ ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ড্রয়ের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরু থেকেই নিজেদের চেনা টিকিটাকা ফুটবল ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার পরিচয় দেয় স্প্যানিশরা। হামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে একাদশে ফিরে আসা লামিনে ইয়ামাল আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেন।
ম্যাচের ১০ মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের ক্রস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল। বিশ্বকাপে এটিই ছিল তার প্রথম গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ১৯৫৮ সালে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের পর ১৮ বছর বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপের ম্যাচের প্রথম গোল করা খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেন।
ইয়ামালের গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন ওয়ারজাবাল। ২১ ও ২৪ মিনিটে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্পেনের হাতে তুলে দেন রিয়াল সোসিয়েদাদের এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কার্যত জয় নিশ্চিত করে ফেলে ‘লা রোজা’।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে স্পেনের চতুর্থ গোল। ৪৯তম মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার শট ঠেকাতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল-তামবাক্তি। আত্মঘাতী সেই গোলেই ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
এরপর সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আরও বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করেন। যোগ করা সময়ে স্পেন আরও একবার বল জালে পাঠালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে স্পেন। অন্যদিকে গ্রুপের বাকি তিন দল—উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে—দুই ম্যাচ শেষে সমান এক পয়েন্ট করে সংগ্রহ করেছে। শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হবে স্প্যানিশদের।