প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 22-06-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার পর লাশ গুমের অপরাধে তাকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত মাত্র ১১৬ দিন (৩ মাস ২৬ দিন) সময়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় এটি ঝিনাইদহের আদালতে একটি নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।
নিহত তাবাচ্ছুমের বাড়ি মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকায় হলেও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। তার বাবা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ কর্মরত।
আদালত ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবু তাহের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর চিৎকার করলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিন পুলিশ কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ১৬ জুন অভিযোগ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর সোমবার রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম। মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, মাত্র ১১৬ দিনে রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
অন্যদিকে, নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।