কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসান এ আবেদন করেন। ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের জন্য পাঠানো আইনি নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
হৃদয় হাসান বলেন, ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের জন্য এর আগে আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের পরিচয় প্রকাশ অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হলেও আমির হামজা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ কারণে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের স্বার্থে দুদকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
হৃদয় হাসানের আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, চলতি বছরের ১ এপ্রিল সংসদ সদস্য আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ অথবা তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।
দুদকে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি ইফতার মাহফিলে আমির হামজা বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য তাকে ৫০ কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, এমন গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের পরও কারা ওই ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিল, তাদের পরিচয় কিংবা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগকারী জানান, গত ১ এপ্রিল এ বিষয়ে তিনি আমির হামজাকে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। এরপরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় দুদকের কাছে আমির হামজার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে।