ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রথম দিন শেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এ বৈঠক গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১৮ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সূত্র : আলজাজিরা, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও। আলোচনার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি করতে একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। পক্ষগুলো লেবাননে লড়াই শেষ করার একটি প্রক্রিয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে ব্যাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে একটি যোগাযোগ লাইন চালু করেছে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তার দেশ তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির জন্য ছাড়, জব্দকৃত কিছু সম্পদের অবমুক্তি এবং ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। পাশাপাশি অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতা জেডি ভ্যান্স জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের জন্য পৃথক ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের আবারও দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
সুইজারল্যান্ড ছেড়েছেন ইরানের শীর্ষ আলোচকরা : ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএ ও তাসনিম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ড ত্যাগ করলেও কারিগরি বা টেকনিক্যাল আলোচক দল এখনো সেখানে অবস্থান করছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নসংক্রান্ত কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ওই দল সুইজারল্যান্ডে থেকে যাবে এবং আলোচনা চালিয়ে যাবে।
জব্দ করা সম্পদ নিয়ে যে বার্তা দিলেন ভ্যান্স : ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ইরানের কোনো সম্পদ ছাড় করা হলে তা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এটি কেবল ইরানের জনগণের জন্য ব্যয় করতে হবে। সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষ করার পর ভ্যান্স বলেন, যদি কখনো ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় করা হয়, তাহলে তা এটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে। এ অর্থ কেবল ইরানের জনগণের জন্য ব্যয় করতে হবে। কোনোভাবে এটি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন, চুক্তির প্রাথমিক শর্তাবলি ইরান যথাযথ পালন করছে কি না তা তদারকি করতে আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা ইরানে ফিরতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাধানের আশা করছি। আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এটি আমাদের উদযাপন করা উচিত।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব