রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর অধিকাংশ সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াতের অনেক এমপির বর্তমান অবস্থান অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গে তুলনীয়।
বুধবার (২৪ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক জাফর ইকবাল সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেননি। তবে স্বাধীনতার পর তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠে পরিণত হন। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল যে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকেও তার কাছ থেকে যুদ্ধের গল্প শুনতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতের কিছু নেতা ও সমর্থকের আচরণও একই ধরনের হয়ে উঠেছে। গত ১৭ বছরে যারা মাঠের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না, এখন তারাই জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বেশি কথা বলছেন বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খানের অভিযোগ, যারা অতীতে রাজপথে নেমে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার হিসেবে আখ্যা দেননি বা রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে সক্রিয় ছিলেন না, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি সংস্কার ও আন্দোলনের আলোচনা করছেন। এতে এসব শব্দ ও আন্দোলনের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের নারী সংসদ সদস্যদের কাউকেই তিনি কখনো রাজপথের আন্দোলনে দেখেননি। একইভাবে দলটির অনেক পুরুষ সংসদ সদস্যও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, তাকে মানুষ চিনেছে “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী” হিসেবে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে, যদিও ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল না।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, “এরা হলো অধ্যাপক জাফর ইকবালের মতো—যুদ্ধ শেষে যুদ্ধের ইতিহাসের কথক, যুদ্ধের সংগঠক নয়। এদের মুখে নতুন বিপ্লবের হুংকার শোনা আর জাফর ইকবালের লেখা বিপ্লবের ইতিহাস পড়া প্রায় একই রকম।”
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম