স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মিছিলে ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ, লাঠিসোঁটা ও আত্মরক্তাক্তকরণের মতো কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, ২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিল শুরুর প্রস্তুতিকালে বোমা হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বছরও হোসাইনি দালান ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে মিছিলে কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না, সে বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, তাজিয়া মিছিলে কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, ধাতব বস্তু, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোটলা, লাঠি, ছোরা, চাকু, তলোয়ার, বর্শা, বল্লম কিংবা আতশবাজি বহন করা যাবে না। এমনকি পোশাকের অংশ হিসেবেও এসব সামগ্রী ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে যারা নিজেদের শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন, সেই ‘পাইক’দের মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। মিছিলের অংশগ্রহণকারীদের বহন করা নিশানের উচ্চতাও ১২ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুতের তারের ঝুঁকি বিবেচনায় লম্বা বাঁশ বা উঁচু কাঠামো নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিছিলটি দিনের আলোতেই শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিল শুরুর স্থানে প্রবেশের আগে অংশগ্রহণকারীদের আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর এবং হাত দিয়ে তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে। তল্লাশি ছাড়া কাউকে মিছিলে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মিছিল চলাকালে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র বা পিএ সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। মিছিলের মধ্যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, এমন আচরণ থেকেও বিরত থাকতে হবে।
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, তাজিয়া মিছিলকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখেই উৎসবমুখর পরিবেশে যেন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
তিনি জানান, তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে হোসাইনি দালান এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে এবং সকলকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি