রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে দেশের কোনো ব্যাংক লুটের ঘটনা ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, বর্তমান সরকারের সঙ্গে তার সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনকল্যাণমুখী বাজেট’ আখ্যা দিয়ে পার্থ বলেন, এতে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সহায়ক সরঞ্জামের ওপর কর কমানো, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং ক্যানসার, হৃদরোগ ও চক্ষু চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম কমানোর মতো জনবান্ধব উদ্যোগ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই বাজেটে আমি একটি স্পষ্ট বার্তা দেখেছি একটি স্বৈরাচারী সরকার এবং একটি জনগণের সরকারের মধ্যে পার্থক্য। এই বাজেটের চিন্তা ও দর্শন সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গত ১৭ বছরের কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিল না, কারণ সে সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে। তার ভাষায়, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য দেশ লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, জনগণকে শুধু ২০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু দেখানো হয়েছে, যা বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণ করে অহংকারের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। অথচ একই সময়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছিল।
বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে পার্থ বলেন, “গত চার মাসের কোনো পত্রিকা খুলে একটি ব্যাংক লুটের খবরও দেখাতে পারবেন না। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো দুর্নীতিও নেই। তাই আমাদের বেনিফিট অব দ্য ডাউট দিন। বাজেটকে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় না বানিয়ে জাতীয় উন্নয়নের ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।”
অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে ইসলামি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ জাকাতভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি। পার্থ বলেন, দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত মানুষের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা হলে দেশ-বিদেশের দাতারা সহজেই প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে জাকাত পৌঁছে দিতে পারবেন।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন, জাকাতদাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে একটি ‘জাকাত টেলিভিশন’ চালু করা যেতে পারে।
ইসলামিক ব্যাংকিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামিক ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশ এই ব্যবস্থাকে সফলভাবে গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, একটি ইসলামী ব্যাংকে ডাকাতি হয়েছে বলে পুরো ব্যবস্থাকে খারাপ বলা যায় না। খারাপ ছিল ডাকাত, ব্যাংকিং ব্যবস্থা নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, নৈতিক ও মানবিক উন্নয়নও চায়। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে সেই সঙ্গে আল্লাহর রহমতও চাই। শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নয়ন নয়, যেখানে আত্মহত্যার হার বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ।
নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলার উন্নয়ন নিয়েও সংসদে জোরালো বক্তব্য দেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, ভোলায় প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাসের মজুত রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনা। অথচ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে এখনও তাকে হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও সেতুর জন্য বিভিন্ন মহলে ঘুরতে হচ্ছে।
ভোলা-বরিশাল সেতু প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে এর ব্যাখ্যা দাবি করেন। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত ভোলায় বিমানবন্দর নির্মাণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘ভোলা ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
পার্থ বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে ভোলা বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। এটি চীনের শেনজেন কিংবা মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মতো একটি অর্থনৈতিক হাবে রূপ নিতে সক্ষম।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম