ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ডানপন্থি প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি। তবে তার বামপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী রবার্তো সানচেজ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তিনি আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের।
সোমবার কেইকো ফুজিমোরি বলেন, পেরুর জাতীয় নির্বাচন জুরি (জুরাদো নাসিওনাল দে এলেক্সিওনেস-জেএনই) আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা না করা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন। এর আগে দেশটির নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল অফিস অব ইলেক্টোরাল প্রসেসেস (ওএনপিই) বিতর্কিত ব্যালট পর্যালোচনা শেষে শতভাগ ভোট গণনা সম্পন্ন করে।
চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ১০০ শতাংশ ভোট গণনায় কেইকো ফুজিমোরি পেয়েছেন ৫০ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ ভোট। আগামী ৩ জুলাই পেরুর জাতীয় নির্বাচন জুরি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ফুজিমোরি বলেন, আমরা পেরুর সব মানুষের জন্য শৃঙ্খলা ও আশার নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচিত হলে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কেইকো ফুজিমোরি প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির কন্যা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আলবার্তো ফুজিমোরি কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন।
অন্যদিকে রবার্তো সানচেজ দাবি করেছেন, নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ভোটের সুরক্ষার দাবিতে তিনি সমর্থকদের বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পরও পেরুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা সহজে কাটার সম্ভাবনা নেই। গত এক দশকে দেশটিতে ৯ জন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এসেছেন, যাদের অনেকেই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদচ্যুত, অভিশংসিত বা অপসারিত হয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম