কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: হঠাৎ করেই বন্যার পানি বাড়তে শুরু করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলের মানুষ। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না, আবার ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের নামা কাচিচর এলাকার গৃহবধূ শাহিদা বেগম বলেন, “হঠাৎ করেই বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এখনো রান্না করতে পারিনি। ঘরের জিনিসপত্র ওয়াপদা বাঁধে তুলতে ব্যস্ত আছি। ঘরের ভেতরে পানি থাকায় ছোট ছোট বাচ্চারা খাটের ওপর বসে আছে। এখনো তাদের নিরাপদ জায়গায় নিতে পারিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, বাড়ির চারপাশের পাশাপাশি ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে। গরু-ছাগল নিয়ে ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। সন্তানদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। তিনি বলেন, আজকের মধ্যেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে নিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী নদীটি এখনো বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানিও ধীরে ধীরে কমছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য কাঁচা সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় পরিবারগুলো গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনো প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী আরও তিন দিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত রয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম