রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স)-এ গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক আধুনিক গবেষণাগার স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরি এখন সময়ের দাবি।
বুধবার (১ জুলাই) বুটেক্সের নতুন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টেক্সটাইল প্রকৌশল একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর ক্ষেত্র। তাই এ খাতে আধুনিক গবেষণাগার, বিশেষ করে এআই-চালিত ল্যাব স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। সরকার এ খাতে গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, বুটেক্সে ভর্তি হওয়া কোনোভাবেই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার বিকল্প নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে।
ড. মিলন জানান, চলতি বছরে বুটেক্সের প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বিভিন্ন ক্যাডারে বিশেষ করে প্রশাসন, পররাষ্ট্র ও পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া বুটেক্সের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর পোশাকে “মেড ইন বাংলাদেশ” লেখা দেখে গর্ব অনুভূত হয়। তবে দেশের অভ্যন্তরেও আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা একটি বড় সম্পদ, যা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
বুটেক্সের অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজন হলে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে এবং আসনসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, অতীতে দেশের টেক্সটাইল শিল্প ও বায়িং হাউসগুলোতে বিদেশি, বিশেষ করে ভারত ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তবে বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা কোনোভাবেই মেধায় পিছিয়ে নন। তাই দেশীয় দক্ষ জনশক্তিকে আরও সুযোগ দিতে হবে।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে দুটি বিশেষায়িত সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বুটেক্সের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের আবেদন সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের দাবির বিষয়টি যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম