প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 01-07-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ চিপস খেয়ে রামপালে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ
বাগেরহাট প্রতিনিধি: রামপাল উপজেলায় চিপস খেয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী ও এক অভিভাবক গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত দোকানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বড়দূর্গাপুর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি। এ সময় দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ চিপস ও ডিটারজেন্টের মোড়কে চিপস বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর দাবির মুখে তাৎক্ষণিকভাবে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে, সোমবার (২৯ জুন) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বড়দূর্গাপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ওই দোকান থেকে অনুমোদনহীন চিপস কিনে খাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিপসগুলো ডিটারজেন্টের প্যাকেট সদৃশ মোড়কে বিক্রি করা হচ্ছিল। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটে ব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে তাদের অভিভাবক এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. শাহীনুর রহমান পলাশ ও রাজনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম হাসান তিতাসের সহযোগিতায় দ্রুত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রস্থ মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে রয়েছে—প্রাপ্তি অধিকারী (১০), তুফান শেখ (১৩), রাজদীপ (১০), আখিরা (১১), লামিয়া (১১), জান্নাতুল (১০), আরহী মন্ডল (৫), রাহুল মন্ডল (৮), সৃষ্টী বিশ্বাস (১০), দীপিকা হালদার (অভিভাবক, ২৮), ফাতেমা আক্তার (৮), আমবিকা (৬) ও প্রোভাতী (১০)। তাদের মধ্যে জান্নাতুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন মৈত্রী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। মৈত্রী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিব রেজোয়ান জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গুরুতর এক শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
এদিকে, ঘটনার পরপরই পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।