আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী না গেলেও ভারতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে অনুষ্ঠানে যোগ দেবে।
সোমবার (২৯ জুন) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। তবে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমন্ত্রণ সত্ত্বেও মোদি ব্যক্তিগতভাবে তেহরান সফর করছেন না। তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিদল অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।
প্রতিনিধিদলে থাকবেন বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ হাসনাইন এবং ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্রা মার্গারিটা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। তার মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই থেকে খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হবে এবং ৯ জুলাই দাফনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে শোকসভা ও ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, ছয় দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে।
এদিকে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনও খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর আঞ্চলিক কূটনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই শোকানুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও ইরানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বিদ্যমান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও নয়াদিল্লি তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারত সফর করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একাধিকবার টেলিফোনে আলোচনা এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি বিনিময় হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি