রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পদ্মা রেলওয়ে সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পের পরিকল্পিত কাজেরই অংশ এবং এতে সেতুর নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, সেতু ও রেল পরিবহনমন্ত্রী রবিউল আলম। সম্প্রতি ভায়াডাক্টের নিচে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
রবিউল আলম বলেন, মাটি অপসারণের বিষয়টি সত্য হলেও এটি কোনো অপরিকল্পিত বা স্বেচ্ছাচারী কার্যক্রম নয়। প্রকল্পের চুক্তি ও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই কাজ পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে জলাভূমির ওপর অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সেই অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করে এলাকাকে আগের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা প্রকল্প চুক্তিতেই উল্লেখ রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্টের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ দশমিক ৪১ কিলোমিটার অংশের অস্থায়ী ভরাট অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। পরিবেশের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং জলাভূমির প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি অপসারণের পরই মূল প্রাকৃতিক স্তরে পৌঁছানো যাবে। সেই স্তরেরও প্রায় সাত থেকে আট ফুট নিচে রয়েছে ছয় ফুট পুরু পাইল ক্যাপ এবং এর আরও প্রায় ২০০ ফুট গভীরে আটটি পাইলের ওপর পুরো ভায়াডাক্টের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। ফলে মাটি অপসারণের সঙ্গে সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তার কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।
রবিউল আলম জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষজ্ঞদের নকশা ও তত্ত্বাবধানে কাজটি পরিচালিত হচ্ছে। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ভবিষ্যতে রেলপথ সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্ট রেলওয়ের জমি দেশের স্বার্থে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, “রেলওয়ের জায়গা রেলওয়ের প্রয়োজনেই ব্যবহার হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে যতটুকু মাটি অপসারণ প্রয়োজন, ততটুকুই করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়েও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম