স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। তবে টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় এমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার কথা ভাবেনি লিওনেল স্কালোনির দল। তাদের ধারণা ছিল, নকআউট পর্বে স্পেন কিংবা উরুগুয়ের মতো কোনো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষেই লড়তে হবে।
ড্র অনুযায়ী ‘এইচ’ গ্রুপে কেপ ভার্দের সঙ্গে ছিল স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব। ফলে অধিকাংশ ফুটবল বিশ্লেষকের মতো আর্জেন্টিনাও ধরে নিয়েছিল, গ্রুপ থেকে স্পেন কিংবা উরুগুয়াই এগিয়ে আসবে। কিন্তু তিন ম্যাচেই ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেয় আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা অঘটনের জন্ম দিয়ে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মিশন শুরু করে। পিছিয়ে পড়েও প্রবল মানসিকতার পরিচয় দিয়ে শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র আদায় করে নেয়। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করে। আর্জেন্টিনা
শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ‘জে’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল বলেন, শুরুতে তারা কেপ ভার্দেকে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবেননি, তবে এখন দলটিকে মোটেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
ডি পল বলেন, ড্র হওয়ার সময় আমরা ভেবেছিলাম শেষ ৩২-এ হয়তো কোনো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হতে হবে, যাদের দলে ইউরোপের বড় বড় লিগে খেলা অনেক ফুটবলার রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। তাই আমাদের দায়িত্বশীল এবং মনোযোগী থাকতে হবে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ।
স্কালোনির অধীনে দীর্ঘদিন খেলা এই মিডফিল্ডার মনে করেন, নকআউট পর্বের ম্যাচের চাপ সবসময়ই ভিন্ন। তবে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা থাকায় সেই চাপ সামলে খেলতে আত্মবিশ্বাসী বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ডি পল বলেন, নকআউটের প্রতিটি ম্যাচই আলাদা। এই পর্যায়ের আবেগ ও চাপ অনেক বেশি তীব্র। অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, কীভাবে এসব পরিস্থিতি সামলাতে হয়। তবে প্রতিপক্ষকে সম্মান করতেই হবে, কারণ এমন ম্যাচে সামান্য ভুলও বড় মূল্য চুকাতে বাধ্য করতে পারে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব এখন পর্যন্ত আফ্রিকান দলগুলোর জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নয়টি আফ্রিকান দলের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল, ডিআর কঙ্গো ও আলজেরিয়া ইতোমধ্যেই বিদায় নিয়েছে। মরক্কোর পাশাপাশি এখন ঘানা, মিশর ও কেপ ভার্দের কাঁধেই আফ্রিকার আশা টিকে আছে।
মায়ামিতে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে লড়াইকে ইতোমধ্যেই ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’ দ্বৈরথ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। একদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ কেপ ভার্দে।
কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা ম্যাচটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা এখানে কেবল অংশ নিতে আসিনি, যোগ্যতার ভিত্তিতেই এসেছি। তাই ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
অন্যদিকে, নিজের শততম ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করছেন। তিনি বলেন, কেপ ভার্দে কোনো অঘটনের মাধ্যমে এখানে আসেনি। তারা নিজেদের সামর্থ্য দিয়েই এই পর্যায়ে উঠেছে। আমরা তাদের পূর্ণ সম্মান দেব।
এদিকে ডালাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও মিশর। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম নকআউট জয় পেতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে দলের তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে মিশর শিবির।
মিশরের কোচ হোসেন হাসান জানিয়েছেন, শতভাগ ফিট না হলে সালাহকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেবেন না তারা।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ বলেন, আফ্রিকান দলগুলোর বিদায় আমাদের কাঁধে বাড়তি দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। পরবর্তী রাউন্ডে আরও একটি আফ্রিকান দলকে তুলে নেওয়াই এখন আমাদের লক্ষ্য।
ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মায়ামি ও ডালাসের দিকে। একদিকে মেসিদের জাদু দেখার অপেক্ষা, অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবলের নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। বিশ্বকাপের এই উত্তাল মুহূর্তে কোন দল রূপকথা লিখবে আর কারা বিদায় নেবে, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি