স্পোর্টস ডেস্ক: লাল-সাদা ঐতিহ্যবাহী জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছে নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে শুরু হয়েছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পরই রেফারির বাঁশিতে শুরু হয় ব্রাজিল-নরওয়ের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই।
নরওয়ের প্রধান কোচ স্টালে সোলবাক্কেন একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছেন। চোটের কারণে আগের দুই ম্যাচে না খেলা জুলিয়ান রিয়ারসন ফিরেছেন ডানপ্রান্তের রক্ষণভাগে। তার জায়গা ছেড়েছেন মার্কুস পেডারসেন। দলের আক্রমণের মূল ভরসা আর্লিং হাল্যান্ড, যিনি টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করেছেন। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫।
অন্যদিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে একটি বাধ্যতামূলক পরিবর্তন করতে হয়েছে। জাপানের বিপক্ষে চোট পাওয়া লুকাস পাকেতা এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না। তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, যিনি আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন।
ব্রাজিলের চার সদস্যের আক্রমণভাগে জায়গা পেয়েছেন তরুণ রায়ান। তিনি এখন পেলে ও জোসে আলতাফিনির পর তৃতীয় কিশোর ফুটবলার হিসেবে এক বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে তিনটি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেলেন। এদিকে নেইমার ও রাফিনহা বেঞ্চে রয়েছেন। চোট কাটিয়ে উঠলেও রাফিনহাকে এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত মনে করছেন না কোচ।
গ্রুপ পর্বে সাত পয়েন্ট নিয়ে 'সি' গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ব্রাজিল। এরপর নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মার্তিনেল্লির গোলে নাটকীয় জয় পায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ ষোলোর আগের ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জয় নিয়ে পরের ধাপে উঠেছে সেলেসাওরা। কেবল ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
তবে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ইউরোপের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা ছয়টি নকআউট ম্যাচে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। আনচেলত্তির শিষ্যরা এবার সেই হতাশার অধ্যায়ের ইতি টানতে চান।
অন্যদিকে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে আর্লিং হাল্যান্ডের জয়সূচক গোলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে নরওয়ে। বিশ্বকাপ অভিষেক আসরেই ইতোমধ্যে পাঁচ গোল করেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এবার ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য তাদের। এর আগে দুইবার শেষ ষোলোতে উঠে ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল নর্ডিক দেশটি।
পরিসংখ্যানও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপে ১৯৯৮ সালের স্মরণীয় জয়সহ ব্রাজিলের বিপক্ষে আগের চার দেখায় এখনো অপরাজিত রয়েছে তারা।
নরওয়ের একাদশ (৪-৩-৩): ওরইয়ান নিয়ল্যান্ড; জুলিয়ান রিয়ারসন, ক্রিস্টোফার আয়ের, টরবইর্ন হেগেম, ডেভিড মোলার উলফে; মার্টিন ওদেগার্ড, সান্ডার বের্গে, প্যাট্রিক বের্গ; আলেকজান্ডার সোরলোথ, আর্লিং হাল্যান্ড, আন্তোনিও নুসা।
ব্রাজিলের একাদশ (৪-২-৩-১): আলিসন বেকার; দানিলো, মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ডগলাস সান্তোস; কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস; রায়ান, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র; মাতেউস কুনিয়া।