রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা চাইলে আমার কথাটি রাখতে পারেন, নাও রাখতে পারেন। তবে আমি মনে করেছি, বিষয়টি আপনাদের জানানো উচিত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাবা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতি মাসে নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিতেন, যাতে তা গরিব-দুঃখী মানুষের কল্যাণ কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ব্যয় করা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য ছিল, তার মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা তিনি সরকারি হিসাবে জমা দেন। এরপর তিনি মন্ত্রীদেরও সামর্থ্য থাকলে একই উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছি এবং প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগে সন্তুষ্ট হয়েছি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণি অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব স্বাস্থ্যসেবাতেও পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সিজারিয়ান অপারেশন করানোর প্রবণতা বেড়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিছু দালালচক্র ও চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। মা ও সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবারগুলো চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে নিতে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গাগুলোর একটি। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতার চর্চা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর পুষ্টি এবং দক্ষ মিডওয়াইফের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়, বরং জাতীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তার অংশ।
তিনি জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের বড় অংশ মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একজন ধাত্রী নিবন্ধন পেতে ৪০টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করতে হয়। প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার ৮০০ দক্ষ ধাত্রী তৈরি হলেও কর্মসংস্থানের অভাবে তাদের অধিকাংশই পেশা থেকে ছিটকে পড়েন। বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বছরে মাত্র প্রায় ৫০০ ধাত্রী কাজের সুযোগ পান, বাকিদের সাধারণ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে নিরাপদ মাতৃসেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম