ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। এতে আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখনো প্রায় ১৮ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মানুষ ৮০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে জনস্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএএইচও) সতর্ক করে জানিয়েছে, অতিরিক্ত মানুষের ভিড়, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আশ্রয়কেন্দ্রে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, ক্ষতস্থানে সংক্রমণ, ডেঙ্গু এবং টিটেনাস, হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগ, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত ছিল না। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোও সরকারের সাড়াকে অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেছে।
তবে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দাবি করেছেন, ভূমিকম্পের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে একটি নতুন সামরিক ইউনিট গঠনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকারকে সহায়তা করতে উদ্ধার, চিকিৎসা এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম