হালুয়াঘাট প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম (দুখু) উন্নত চিকিৎসা, হামলার ঘটনায় বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক মানবকণ্ঠের হালুয়াঘাট উপজেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গাজীপুরের শ্রীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হন। এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার পর তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নাক ও ন্যাসোফ্যারিংসজনিত জটিলতা নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকলেও শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বর্তমানে তিনি নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় থানায় অবহিত ও লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার কারণে তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়েও বর্তমানে অসুস্থতার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তার পরিবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে, তার পরিবারের অভিযোগ, সরকার থেকে পাওয়া বন্দোবস্তের জমিও বসবাসের উপযোগী নয়। প্রায় ৫ ফুট গভীর গর্ত হওয়ায় সেখানে ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জমি ভরাট ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কার্যকর উদ্যোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তারা।
উল্লেখ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাহসিকতার জন্য শফিকুল ইসলামকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে সরকারি গেজেটে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সাংবাদিক মহল ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা তার উন্নত চিকিৎসা, হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি