বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় গ্রেপ্তার একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য ও হামলাকারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে থানার হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করলে অচেতন হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা চালায় বলে পুলিশ দাবি করেছে।
এ সময় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও মিছিলকারীদের কয়েকজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে এএসআই আব্দুল হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান রয়েছেন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রিয়াজের পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে পুলিশ নির্যাতন করেছে। তবে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চুরির মামলায় রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাজতে থাকা অবস্থায় সে নিজেই মাথায় আঘাত করে আহত হয়।
ওসি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের আহত করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি