রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি জানান, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় এ অঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য পরিবার। সংকটময় এ সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মানবিক ও কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্য জানান মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে মাহ্দী আমিন উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন।
উদ্যোগগুলো হলো
১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৪. দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫. জরুরি পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
৬. চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন।
৭. দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
৮. ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের কারণে দুর্গত এলাকাগুলোতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
৯. দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
১০. টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করবে সরকার।
ফেসবুক পোস্টের শেষে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। সংকটের এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী গভীর দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম