রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।
এর আগে একই দিন সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে মারা যায় আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে পুষ্প।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার, যিনি বর্তমানে মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বেও রয়েছেন, জানান, বন্যায় নিহত দুই শিশুর পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চকরিয়ার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এ ছাড়া নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, কৃষিজমি ও চিংড়ির ঘের। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার চেয়ে বেশি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
তিনি জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম