গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার শিকিরবাজার স্কাউট ভবন থেকে পূর্ব চিত্রাপাড়া সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টির পর সড়কের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে হাত দিলেই পিচ উঠে যেতে শুরু করে। এ নিয়ে স্থানীয়রা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও রাস্তার অংশ ভেঙে গেছে এবং ইট সরে গেছে। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশের মাটির শোল্ডার বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই সড়কটির কাজে অনিয়ম হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তিনি সড়কের কাজের উচ্চতর তদন্ত এবং নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষার দাবি জানান।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নকশা অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে প্রায় তিন ফুট প্রশস্ত মাটির শোল্ডার নির্মাণের কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে তা করা হয়নি। এজিংয়ের কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার এবং কার্পেটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় প্রাইম কোট ও ট্যাক কোট যথাযথভাবে না দেওয়ার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তার অবস্থা খারাপ হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তারা নতুন করে কার্পেটিং, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, সড়কের কাজ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের স্থানীয় প্রতিনিধি ইয়াসিন হোসেন কোটালীপাড়া প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেছেন। সাংবাদিকের দাবি, মামলাটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং অনিয়মের অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরাতেই এটি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইয়াসিন হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক জানান, সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ছুটিতে থাকায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরে জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’
এর আওতায় প্রায় ৭৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩০১ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২৬৫ মিটার দীর্ঘ এ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দায়িত্ব পায় জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ইয়াসিন হোসেন।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ