রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং মাজার সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে টাকা গণনা করা হচ্ছে। এ কাজে অংশ নিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত ২২ জুন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক দানের ডেগে জমা থাকা টাকা গণনা করা হয়। ওই সময় গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে ওই অর্থ সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় দানবাক্সের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই শনিবার প্রকাশ্যে গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ কার্যক্রমে অংশ নিতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারে উপস্থিত হন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরে তারা মাজারের ঐতিহাসিক দানের তিনটি ডেগ সিলগালা অবস্থা থেকে খুলে দেন। ডেগ থেকে টাকা বস্তাবন্দি করে মসজিদসংলগ্ন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা টাকা গণনার কাজ শুরু করেন। পুরো কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে মাজার এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথম উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ ও পুরোনো দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।
এ উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়। এর মধ্যেই ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন গণনা শেষে পাওয়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা সোনালী ব্যাংকে খোলা নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামো তৈরির সুপারিশ দিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম