ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. ফরহাদ ওরফে কোম্পানীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় ভুক্তভোগীর বাবাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগও রয়েছে। রোববার তাঁকে ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই বালিয়াডাঙ্গী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি দায়ের হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন প্রধান আসামি। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২৫ জুন সহযোগীদের নিয়ে তাঁকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া এবং ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর কিশোরী বাড়ি ফিরে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানালে আসামিরা জাল কাবিননামা তৈরির দাবি করে এবং মামলা করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়। এর কয়েক দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা আবুল কাসেমের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, অপহরণ, ধর্ষণ, হামলা ও ধারাবাহিক হুমকির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গত ৫ জুলাই আবুল কাসেম আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান বাজার এলাকা থেকে র্যাব-১৩-এর সহযোগিতায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর জানান,মামলাটি তদন্তাধীন। এ অবস্থায় আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব