ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানায় এক তরুণীকে (২০) ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় এই এজাহার দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— রুহিয়া থানার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ী গ্রামের মৃত নইমদ আলীর ছেলে মো. আক্তারুল ইসলাম (৩৮) এবং তাঁর স্ত্রী মোছা. মোস্তাকিমা বেগম (৩৪)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি এবং আসামিদের বাড়ি পাশাপাশি। ১ নম্বর আসামি আক্তারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই ওই তরুণীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং এতে রাজি না হলে জোরপূর্বক ধর্ষণের হুমকি দিতেন। গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে ভোটার আইডি কার্ডের আবেদনের বিষয়ে কথা বলার বাহানায় ২ নম্বর আসামি মোস্তাকিমা বেগম ওই তরুণীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। তরুণীটি তাদের শয়নকক্ষের মেঝেতে বসলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোস্তাকিমা বেগম ঘরের বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করে দিয়ে বাইরে চলে যান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘরের আলো নেভানোর পরপরই আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আক্তারুল ইসলাম ঘরে প্রবেশ করে তরুণীর মুখ চেপে ধরেন এবং মেঝেতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় তরুণীটি তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে আক্তারুল ইসলামের হাত থেকে মুখ সরিয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে আসামি আক্তারুল ইসলাম কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে লোকলজ্জা ও পারিবারিক আলোচনার কারণে থানায় এসে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে বাদী জানান।
রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব