বেনাপোল প্রতিনিধি: মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আমদানি করা তিন হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার কাঁচামাল (সিলডেনাফিল সাইট্রেট) জব্দের পর বেনাপোল বন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জব্দকৃত চালানটি যাতে কোনোভাবে বন্দর পণ্যগার থেকে সরিয়ে নেওয়া না যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট ৩২ নম্বর শেডে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের অনুরোধের পর বন্দরের আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং গোয়েন্দা সদস্যদের অতিরিক্ত পাহারায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৪ নম্বর শেডেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, যেখানে আগে জব্দ করা আরেকটি ভায়াগ্রার চালান সংরক্ষিত রয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণায় ভারত থেকে ১৬ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল হায়দার অ্যান্ড সন্স নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। সন্দেহের ভিত্তিতে পণ্য পরীক্ষা করা হলে এতে ১৩ ধরনের রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিন হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার কাঁচামালসহ বিভিন্ন ওষুধের অননুমোদিত কাঁচামাল শনাক্ত করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণায় আমদানি করা ২ হাজার ৭০০ কেজি রাসায়নিক পরীক্ষার পর ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়। ওই চালানটিও বর্তমানে বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে সংরক্ষিত রয়েছে।
সম্প্রতি জব্দকৃত পণ্য বন্দর থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। এরপরই সংশ্লিষ্ট পণ্যগারগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, এর আগে জব্দকৃত পণ্য গায়েব, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচারসহ বিভিন্ন ঘটনায় বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বিপুল পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত ওষুধের কাঁচামাল অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করলে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শেডগুলোতে ২৪ ঘণ্টার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, পরীক্ষায় চালানটিতে তিন হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার কাঁচামালসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পাওয়া গেছে। বর্তমানে চালানটি কাস্টমসের হেফাজতে রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি