রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
বৈঠক শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে আপাতত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব এলাকায় পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আয়োজন এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার পর ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। একই সময়ে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক, দাবি এক মিলনের পদত্যাগ’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই পরীক্ষা নেওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। জলাবদ্ধতা, যানজট ও যোগাযোগ সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বাসা থেকে বের হয়েও পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ করছেন।
সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, সোমবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়িয়ে যেতে পারে না। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম